৩১ অক্টোবর, ২০২১ ১২:২৫ পিএম

শিগগিরই আসছে সুই ছাড়া টিকা দেওয়ার পদ্ধতি 

শিগগিরই আসছে সুই ছাড়া টিকা দেওয়ার পদ্ধতি 
প্যাচেসের ক্ষেত্রে টিকা সংরক্ষণের জন্য শীতল তাপমাত্রার বাধ্যবাধকতা না থাকায় নতুন এই কৌশল টিকা সরবরাহ ও বিতরণে সহায়ক।

মেডিভয়েস ডেস্ক: সুই ফোটার আতঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে সিরিঞ্জ ও সুই ছাড়াই করোনার টিকা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, শিগগিরই এ ধরনের টিকা প্রয়োগ করা যাবে। খবর এএফপির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধ দেওয়া ছোট ব্যান্ডেজের মতো একটি জিনিস (প্যাচেস) ত্বকে লাগিয়ে দেওয়া হবে। এটিই শরীরে টিকার মতো কার্যকর হবে।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নতুন গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রাপ্ত ফলকে সম্ভাবনাময়ী হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাচেসের ক্ষেত্রে টিকা সংরক্ষণের জন্য শীতল তাপমাত্রার বাধ্যবাধকতা না থাকায় নতুন এই কৌশল টিকা বিতরণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

অস্ট্রেলীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের দল যৌথভাবে এই প্যাচেস আবিষ্কার করেছে। প্রতিটি প্যাচেসের আকার এক বর্গসেন্টিমিটার। এতে পাঁচ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র স্পাইক ছিদ্র করে দেওয়া থাকবে। 

গবেষণা প্রতিবেদনের সহলেখক ও কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডেভিড মুলার বলেন, ‘এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র যে সত্যিকার অর্থে আপনারা তা দেখতেই পাবেন না।’

ছোট একটি যন্ত্র ব্যবহার করে ওষুধের প্রলেপযুক্ত প্যাচেস ত্বকের ওপর বসিয়ে দেওয়া হবে। এ সময় ত্বকে ঝাঁকুনি হতে পারে।

গবেষকেরা প্যাচেস নিয়ে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। কিছু ইঁদুরের শরীরের ওষুধযুক্ত প্যাচেস দুই মিনিট করে লাগিয়ে রাখা হয়। আর কিছু ইঁদুরের শরীরে সিরিঞ্জের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হয়। দেখা গেছে, যে ইঁদুরগুলোকে প্যাচেস ব্যবহার করে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, তাদের শরীরে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

গবেষক মুলার আরও বলেন, টিকা মূলত আমাদের পেশিতে প্রয়োগ করা হয়, তবে ওষুধের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন কোষ পেশিতে থাকে না। অন্যদিকে প্যাচেসের মাধ্যমে ক্ষুদ্র স্পাইক ত্বকের যেখানে বসানো হবে সে এলাকার ত্বক মরে যাবে। আর তা শরীরকে সমস্যার ব্যাপারে সতর্ক করে দেবে। আর এতে অনেক বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।

এ গবেষণায় ব্যবহৃত প্যাচেস তৈরি করেছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানি ভাক্সাস। আগামী এপ্রিল থেকে মানবদেহে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মাইক্রোন বায়োমেডিকেল এবং ভাক্সেস নামের দুটি মার্কিন কোম্পানিও প্যাচেস তৈরির প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এর মধ্যে ভাক্সেস ক্ষুদ্র সুইযুক্ত ভিন্ন ধরনের প্যাচেস তৈরির চেষ্টা করছে। এটি ত্বকে মিশে যাবে। তাদের দাবি, এমনটা করা সম্ভব হলে প্রতি প্যাচে ব্যবহৃত স্পাইকের পরিমাণ কমিয়ে আনা যাবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও